এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার পরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে ডোমগাটা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. সাইফুল্লাহ। গ্রামের বাড়িতে মা–বাবা, বড় ভাই জয়নাল আবেদীন ও মো. সাইফুল্লাহর নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে বাস করতেন
মো. সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং বসতঘরে কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বসতঘরের আগুন বড় হয়নি, নিভিয়ে ফেলা হয়।’

কারা বা কী কারণে আগুন দিতে পারে—এই প্রশ্নে মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে, ইদানীং হুমকি বেশি ছিল। কিন্তু এলাকায় এ কাজ কারা করেছে তা বুঝতে পারছি না। এলাকা থেকে কোনো ধরনের হুমকি ছিল না। কিন্তু গত কয়েকটি ইস্যুতে এলাকার পলাতক আওয়ামী লীগের লোকজন ফেসবুক পোস্টে হুমকি দিচ্ছিল। এ কাজটি আওয়ামী লীগ করেছে এটা স্পষ্ট। ঘটনার পর অনবরত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলছে “তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলে-মেয়ে বেঁচে গেল।” এ ঘটনায় আমি আইন পদক্ষেপ নেব।’
৮ মার্চ রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। মারধরের পর তাঁকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। ওই সময় তাঁকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ছাত্রশক্তির নেতা সাইফুল্লাহ। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ পরবর্তী সময়ে তিনি এই ফেসবুক পোস্টটি তার আইডি থেকে ডিলিট করে ফেলেন।

এ বিষয়ে মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রাহিদ খানকে ছাত্রলীগ অভিযোগে মারধর করে পুলিশের হাতে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে আমার ঘটনার সম্পৃক্ততা আছে কি না নিশ্চিত না।’